নেপাল- কে.পি ওলি – র সরকার বাঁচাতে মরিয়া চীন

নেপাল- কে.পি ওলি - র সরকার বাঁচাতে মরিয়া চীন

নেপাল- কে.পি ওলি – র সরকার বাঁচাতে মরিয়া চীন

ইতিহাসে কখনো এমনটা হয়নি যে একটি দেশ অন্য একটি দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। ঠিক এমনটাই হতে চলেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপালে। দ্য হিন্দুর পত্রিকার একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে, চীন নেপালের কে. পি ওলি এর সরকার কে বাঁচাতে নিজের দেশের বড় মাপের কমিউনিস্ট নেতাদের একটি দলকে নেপালে পাঠাচ্ছেন। এছাড়াও কাঠমান্ডু পোস্ট এ এই নিবন্ধটি দেখা গিয়েছে। নেপালের মধ্যে যে রাজনৈতিক অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে এবং যার ফলে পুনরায় নির্বাচনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাই চীন এই নির্বাচন থামাতে এবং বর্তমানের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নিজের দেশের বড় মাপের কমিউনিস্ট নেতাদের নেপালে পাঠিয়েছেন।

নেপাল- কে.পি ওলি - র সরকার বাঁচাতে মরিয়া চীন
নেপাল- কে.পি ওলি – র সরকার বাঁচাতে মরিয়া চীন।

নেপালের এই রাজনৈতিক দলটি অস্তিত্বে এসেছিল ২০১৮ র মে মাস। যেহেতু নেপালে সংখ্যাগরিষ্ঠ কোন দল ছিল না তাই নেপালের দুটো দল, কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল( ইউনিফাইড মারক্সিস্ট- লেনীনবাদ) যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন – অলি। কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (মাওবাদী) এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন প্রচন্ড। এবং এই দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চীন নিজের লাভ দেখতে পাই, চীন মনে করে যে এই দুই দলের মাধ্যমে নেপালের সরকারের সাথে অনেক ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবেন। যার ফলে চীন ভারত কে জিওপলিটিক্স এ অনেকটা টেক্কা দিতে পারবে।

নেপালে বর্তমানে কে. পি ওলি এবং প্রচন্ড এর মধ্যে বিবাদ রয়েছে যে, কে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকবে। কেপি ওলি মনে করেন যে যদি পুনরায় নির্বাচন হয় তাহলে সে ভারী সংখ্যক সমর্থনের সাথে জিতে যাবেন, তাই তিনি নেপালের পার্লামেন্টকে নিজের ক্ষমতার প্রয়োগ করে স্তব্ধ করে দিয়েছেন।

চীন বিষয়টি নিয়ে খুব চিন্তিত রয়েছে কারণ কে. পি ওলি যা করেছে তার ফলে নেপালের যে রাইট- উইংস দল রয়েছে তাকে সুযোগ করে দিয়েছে, এবং সেই রাইট- উইংস দলের নাম হল রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি। কিছুদিন আগেই এই দলের পক্ষ থেকে অনেকগুলি পদযাত্রা করা হয়েছিল। এদের দাবি ছিল ২০১৫ তে নেপাল কে একটি হিন্দু রাষ্ট্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষিত করা হয়েছিল তা ফিরিয়ে নেওয়া হোক, এবং আরেকটি হচ্ছে রাজার শাসন পুনরায় স্থাপিত করা হোক। কিন্তু এর মানে এটা না যে গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাবে, এদের বলার মানে হচ্ছে সাংবিধানিক রাজা, ঠিক যেভাবে ইউনাইটেড কিংডম এ রয়েছে।

২৭ ডিসেম্বর নেপালের রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির পক্ষ থেকে একটি বিশাল পদযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। যার ফলে চীন ভয় পাই যে একবার যদি কোন গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় আসে তাহলে তাদের উপর চীনের প্রভাব না এর বরাবর হবে। তাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের সহ- মন্ত্রী, গাও ইয়েজু এর নেতৃত্বে একটি দলকে নেপালে পাঠানো হয়েছে।

নেপালে যদি একবার গণতান্ত্রিক সরকার আসে তাহলে চীনের এতদিনের যত পরিশ্রম ছিল সমস্ত মাটিতে মিশে যাবে, আর তাই বারবার নেপালের নেতাদের সাথে কথা বলছে চীন ।