Skip to content

প্রতিদিনই শয়ে শয়ে শ্রমিক ফিরছে বাড়ি দুঃখ বেদনা ভরা মন নিয়ে

প্রতিদিনই শয়ে শয়ে শ্রমিক ফিরছে বাড়ি দুঃখ বেদনা ভরা মন নিয়ে

সংবাদ দাতা চাকুলিয়া, ১৬ই মে : বাড়ি আসছে তারা দুঃখ বেদনা ভরা মন নিয়ে।কেউ আসছে ট্রেনে, কেউ বাসে। কেউ আসছে বোলেরোতে কেউ আসছে ট্রাকে। কেউ দেশ থেকে তো কেউ বিদেশ থেকে। সকলে দাঁড়াচ্ছে এক সারিতে। কেউ রাস্তার ফকির কেউ শ্রমিক, কেউ রাজমিস্তিরী কেউ ডাক্তার। এমন এক চিত্র দেখা গেল আজ শনিবার বিকেল ৩ টের সময় চাকুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার অমরেন্দ্র রায় জানিয়েছেন জিডিএ ষ্টাফ রা সাধারণত স্ক্রিনিং করে তাপমাত্রা টা দেখে প্রাথমিক কিছু জিজ্ঞেস করে হোম কোরাইন্টিনে থাকার উপদেশ দিচ্ছেন। যদি কারো অসুবিধা মনে করে তবে তাকে ডাক্তারের নিকট পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তার বাবুরা ফাইনালী জানাবেন কাকে হোমে আর কাকে কোরাইন্টিন সেন্টারে পাঠাতে হবে।আজ রাত্রি দশটা পর্যন্ত চলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ।ক্লান্ত হয়ে পড়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা।অন্যদিকে যে সমস্ত শ্রমিকদের ৩-৪ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তারা নিজেদের ক্ষোভ উগরে জানান, ভিন্ রাজ্যে তারা যে সুবিধাটুকু পেয়েছেন নিজের ব্লকে এসে পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করে জানান অন্য রাজ্যে দ্রুতগতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। শ্রমিকদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এখানে তা নেই। ফলে শ্রমিকরা আসে পাশের দোকানে অবাধে সোওদাবাজি করতে থাকে। ফলে অসস্থি্বোধ করেছে আসেপাশের মানুষ। নিলম্বর দাস জানালেন, যেভাবে বহিরাগত শ্রমিকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করে অবাধে হাসপাতালের আসেপাশের দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে ভয়ের কারন যথেষ্ট। অন্যদিকে ভিনরাজ্য থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আমলাবাড়ি গ্রামের ওয়াহেদুর, করিম, ইসমাইল, আজিম, মুসা সকলে বয়ান করলেন নিজেদের দুঃখের কাহিনী। জয়পুর থেকে ফেরত শামসাদ, বেঙ্গালুরু থেকে রাজ কুমার শিকদার, কর্ণাটক থেকে প্রেম কুমার সিংহ, দিল্লি থেকে সতীশ দাস এবং নেপাল থেকে ওয়াহীদ ও মোজাফ্ফরপুর থেকে জাহাঙ্গীর সবাই বয়ান করলেন, হঠকারী লকডাউন, কাজ হারিয়ে পথে এবং পথ থেকে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও দুঃখের কথা।ঢের রাত পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। বয়ান দিলেন এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের কথা।স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের ছাড়া আর অন্য দপ্তরের আধিকারিকদের দেখা মেলেনি এদিন। তারা সাংবাদিক দের জানাতে পারেনি প্রতিদিন কত শ্রমিক ভিনরাজ্য থেকে ফিরছে এলাকায় ।

(চিত্র নিজস্ব প্রতিনিধি)

বড় খবর