Skip to content

পরিযায়ীদের মৃত্যুর কোন তথ্য নেই কেন্দ্র সরকারের কাছে, সরব বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ

আজিম সেখঃ করোনাভাইরাস যখন দেশে থাবা ফেলেছিল, তখন কেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালিপনার শিকার হতে হয়েছিল কয়েক কোটি পরিযায়ী শ্রমিককে।কেন্দ্র সরকারের পরিকল্পনাহীন লকডাউনের ফলে বহু পরিযায়ী শ্রমিক কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন, অনেকে আবার কাজ হারিয়ে পথে পথে পাগলের মতো ঘুরেছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বহু শ্রমিক ভাই দিল্লি মুম্বাই চেন্নাই থেকে হেঁটে ঘরে ফিরেছেন আবার অনেককে মালিকপক্ষ বাসা থেকে বার দিয়েছিলেন বাধ্য হয়ে এই সমস্ত শ্রমিকরা রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ব্রিজের নিচে রাত্রি যাপন করেছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে কতজন পরিযায়ী শ্রমিক মারা গেছেন, তার কোনো তথ্য মোদী সরকারের কাছে নেই। তাই মৃতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোন প্রশ্ন নেই বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার। লোকসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেছেন, লকডাউনের পর সারা দেশে কতজন পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরার সময় মারা গেছেন তার কোনো তথ্য তাঁর মন্ত্রকের কাছে নেই। তাই তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। এই ধরনের বিবৃতির পরই সরব হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে চলা সামাজিক সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ। লকডাউনের সময় বহু পরিযায়ী শ্রমিক এই সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়।ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের এডমিনিস্ট্রেশন এর সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে খাবার থেকে শুরু করে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা পর্যন্ত করেন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ কিন্তু কেন্দ্র সরকারের এই বিকৃতি দেখে হতবাক তারা।বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম আমাদের প্রতিনিধিকে জানান এই সরকারের কাছে পরিযায়ী শ্রমিকদের কোন জীবনের মূল্য নেই। যে মানুষগুলো সারাজীবন শ্রম দিয়ে সভ্যতা কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যারা সভ্যতার ধারক ও বাহক কিন্তু বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে এই মানুষগুলোকে।আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম পঞ্জীয়ন এর ব্যবস্থা করতে হবে সাথে শ্রমিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দপ্তর খুলতে হবে যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্ত তথ্য থাকবে। বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের সম্পাদক তন্ময় ঘোষ জানান যে সমস্ত শ্রমিকরা ভিন রাজ্য থেকে আসতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন সেই সমস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা বৃহৎ আন্দোলন নামবো পরিযায়ী শ্রমিক ভাইদের স্বার্থে।

এদিকে লাইফ ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট উল্লেখ করে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল, লকডাউনের পর পথ দুর্ঘটনায় ১৯৮ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছিল, পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা ট্রাক বা বাসে করে আসতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা মারা গেছেন। তাঁরা যখন একেবারে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে শুয়ে পড়েছেন, তখন গাড়ি বা বাস তাঁদের পিষে দিয়ে গিয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয় জুনের গোড়ায়। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর বিবৃতিতে সরব হয়েছেন দেশের বিরোধীরাও।

বড় খবর