Skip to content

চোখের জল ও একরাশ দীর্ঘশ্বাসই শান্তনা সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের

চোখের জল ও একরাশ দীর্ঘশ্বাসই শান্তনা সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের

বুধবার ঘোষিত হলো বাবরি রায়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধংস হয়। তারপর কেটে গেছে ২৮ টা বছর। রায় শুনে নিরব সঙখ্যালঘু সমাজ। লিখছেন মহিউদ্দীন আহমেদ।

আজ ২৮ বছর পর বেড় হলো বাবরি মসজিদ ধংস করার রায়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ধংস করা হয়। সেই দিনের সেই ঘটনায় প্রধান মূল অভিযুক্ত হয় ৫৯ জন। মামলা চলাকালীন মারা যায় ১৭ জন। আজ জীবিত ৩২ জনকেই বেকসুর খালাস দিলো আদালত। টেলিভিশনের পর্দায় মামলায় রায় শোনার পর চুপ মহিউদ্দীন মোল্লা, আনিসুর রহমানরা। কোন উচ্চবাচ্য নেয়। নেই কোন রাগ। শুধুই চোখের কোনে জল, আর ফেলছে দীর্ঘশ্বাস। যদিও আজকের রায় নিয়ে কৌতুহল সেরকম ছিলো না। এমন নয় যে,আজ বাবরি রায় নিয়ে মহামান্য আদালত কি বলে, তা শোনার জন্য সবাই ভারত-পাকিস্হান ক্রিকেট খেলা দেখার মতো টিভির সামনে সকাল থেকে বসে ছিলো। এমন নয় যে, রায় শোনার পর পক্ষে গেলে রাস্তায় নেমে উল্লাস করবে আর বিপক্ষে গেলে লাঠি হাতে পথ অবরোধ করবে। গত কাল রাতেও যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মিলেমিশে ঈদের আগের দিনের মতো কোন প্রস্তুতিও দেখা যায় নি যে, বাবরি রায় নিয়ে তারা খুব বিচলিত।

আজ দুপুরের পর রায় বেড় হবার পরও নেই সেরকম কোন ক্রীয়া বা প্রতিক্রীয়া। শুধু তারা একটা কথাই বলছেন, দুনিয়ার বুকে বিচার টা সাময়িক। আসল বিচার করবে আল্লাহ। সর্বশক্তিমানের হাতেই সব ক্ষমতা। সংখ্যালঘু সমাজ মহামান্য আদালতকে দোষারোপও করছে না। বলছে না কেউ আদালতের বিপক্ষেও। তাদের একটাই কথা, চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাসই শ্বান্তনা। যে কথা তারা বলছে নীরবে। মুুখে নেই বাক্য ব্যায়। বাংলার সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি সামিরুল ইসলাম বলেন, চোখের জল ই আমাদের শ্বান্তনা। বিজেপি তো সিবিআই সহ সব দফতরকেই কিনে রেখেছে। তারা যা খুশি করবে। রায় শোনার পর সামিরুল সাহেব হতাশ। হতাশ বাংলার সংখ্যালঘুও সমাজ। সিউড়ীর বাসিন্দা সমাজকর্মী মহম্মদ ইয়াসীন আক্তার বলেন, রায় এরকম হবে সেটা প্রত্যাশিতই ছিলো। বাবরি মসজিদটাই তো আগেই নিয়ে নিয়েছে। এখন কি আর বলার আছে। টেলিভিশনে প্রচারিত সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলীর কথা ধরে মহম্মদ ইয়াসীন আক্তার আরো বলেন, মহামান্য জাস্টিস অশোক গাঙ্গুলীও বলেছেন, রায় শুনে আমার বিবেক স্তব্ধ। বিবেকবান ন্যায় পরায়ন এই ব্যাক্তির কথাতেই অনেক কথা বলা হয়েছে। আমরা কি আর বলব?

বুধবার বাবরি মসজিদ ধংসের রায় বেড় হবার পর সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজ একদমই হতাশ। তারা এখন একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জলকেই সাক্ষী রাখছে যন্ত্রনা চেপে রাখতে।

বড় খবর