covid 19আমফান সাইক্লোনপশ্চিমবঙ্গ

আমফান বিধ্বস্ত মানুষের পাশে আল-আমিন মিশন।

বাপি আকুঞ্জি,সন্দেশখালি: আল আমিন মিশন ১৯৮৬ সাল থেকে মানব সেবায় নিয়োজিত। গরীব অসহায় , অনাথ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উন্নতির জন্য সর্বদায় কাজ করে চলেছে সারা বাংলা জুড়ে। আল আমিন মিশন আজ এরাজ্যে ১৭ টি জেলায় ৫৮ টি ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষাদান করছে। কত অসহায় অনাথ এতিম ছাত্র-ছাত্রীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসিক রেখে দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা করেছে আল-আমিন মিশন। এই আল আমিন মিশন শিক্ষার সাথে সাথে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে যেকোনো কঠিন মুহূর্তে। আল-আমিনের একাজ আজ সারা বাংলা জুড়ে সকলের কাছে খুব পরিচিত।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে কোণঠাসা গোটা বিশ্ব। এর মধ্যেই গত ২০ শে মে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা আমফানের বিষাক্ত ছোবলে। অসহায় হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। তাই আমফান বিধ্বস্ত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এর বিস্তীর্ণ এলাকাতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে নেমে পড়েছে আল আমিন মিশন। সাথে সহযোগী হিসেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আল-আমিন মিশন এর প্রাক্তনীদের সংগঠন নব দিগন্ত ও উইথ ইউ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি.


এই সংকটময় মুহুর্তে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে আল আমিন মিশন। বাংলার মুসলিম শিক্ষা নবজাগরণের রূপকার নুরুল ইসলাম সাহেবের এর অনুপ্রেরণায় , আল-আমিন মিশনের উদ্যোগে গত ৭ই জুন থেকে শুরু হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সাথে সাথে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ পরিবার এর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সন্দেশখালি , ন্যাজাট ,মিনাখাঁ , জীবনতলা, হাড়োয়া হাবরা প্রভৃতি থানা এলাকার গ্রাম গুলোতে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে আল-আমিন মিশন। গতকাল এই কার্যক্রমের একটি অংশ হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় সুন্দরবনের আমফান বিধ্বস্ত প্রান্তিক এলাকায়। ঘূর্ণিঝড় আমফান এর বিষাক্ত ছোবলে কার্যত লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সুন্দরবনের অধিকাংশ এলাকা ‌।আতাপুর , মনিপুর , কুমিরমারি , সাতজেলিয়া , হেমনগর , পুইজালী প্রভৃতি বহু এলাকায় এখনো জলের তলায়।

এই সকল এলাকার উদ্দেশ্যে এদিন সকাল ন’টায় ৩০ জনের টিম নিয়ে নৌকা করে ত্রাণ পৌছে যায় আমফান বিধ্বস্ত প্রান্তিক মানুষদের কাছে । এদিন গরিব মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয় চাল , ডাল ,নুন, আলু , সোয়াবিন ও সরিষার তেল সহ প্রতিদিনের খাদ্য সামগ্রীতে পরিপূর্ণ এমন একটি করে খাদ্যের ব্যাগ। প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক নব দিগন্ত ও উইথ ইউ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে মাক্স গ্লাভস পরে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয় দুস্থ মানুষের হাতে। ৩৫০ টি পরিবারের হাতে এই ত্রান সামগ্রী তুলে দেয় এদিন নদীর পাড় থেকে আবার কোথাও নির্দিষ্ট ক্যাম্পে থেকে। আগামীতে আরো ত্রাণকার্য চালিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ আল-আমিন মিশন পরিবার। আরো জানা যায় আগামীতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির ও মশারি সহ অন্যান্য উপকরণের দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেয় আল-আমিন মিশন কতৃপক্ষ। আল আমিন মিশন ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে হাসিমুখে ত্রাণ নিয়ে ঘরে ফেরে সুন্দরবনের আইলা , বুলবুল ও আরফান বিধ্বস্ত মানুষেরা।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
এখনি যুক্ত হন
Close